banner-47
bar

 
 
 
 
 

অরণ্যের অধিকার কার? আদিবাসী ও অন্যান্য বনবাসীদের?
নাকি বন বিভাগ, কাঠ মাফিয়া আর কর্পোরেট কোম্পানিদের?

সুপ্রিয় সরকার

আমরা ধরে নিচ্ছি যে সবাই মোটামুটি অবগত আছেন যে শিল্পায়ন ও উন্নয়নের প্রতিক্রিয়ায় যে ব্যাপক মাত্রায় বায়ু দূষণ হচ্ছে সেটা থেকে বাঁচতে হলে বড় বড় গাছের বন থাকা যে দরকার সেই নিয়ে কারো মনে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমরা অর্থাৎ ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ শহরেই থাকি আর শহরে বড় গাছ প্রায় নেই আর থাকলেও কেটে ফেলার ধুম লেগেছে। তাহলে বন থাকতে হয় গ্রামে, আর পাহাড়ি এলাকায়। কিন্তু দেশের বেশীর ভাগ গ্রামে বন নেই। যদিও দেশের মোট জমির কমপক্ষে শতকরা ৩০ ভাগ জমিতে জঙ্গল থাকা উচিত। নাহলে আমরা কেউ বেঁচে থাকতে হলে ন্যূনতম যে অক্সিজেন দরকার সেটা পাব না। তাহলে উপায়? আপনি হয়তো বলবেন, না না, অত দায়িত্ব আমরা নিতে পারব না। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট তো আছেই। তারাই বন বাড়াবে, বন বাঁচাবে।

সত্যিই কি তাই? ব্রিটিশরা এদেশে প্রথম বন আইন তৈরি করেছিল নিজেদের ঔপনিবেশিক স্বার্থ সিদ্ধি করার জন্য আঠেরো শতকে। । ইংরেজরা তাদের দেশে ও এদেশে তাদের উপনিবেশ চালানোর প্রয়োজনে কাচা মাল সরবরাহ করতে পাতল রেল লাইন। এই লাইনকে একটা শক্ত ভিতের উপরে রাখতে হয় বলে ব্যাপক মাত্রায় জেলার পর জেলা (যেমন পুরুলিয়া জেলা, বাঁকুড়া জেলার অনেকটা অংশ) থেকে বন প্রায় চেঁছে ফেলে কাঠের লগগুলিকে ট্রেন লাইনের বেস হিসাবে বসিয়ে দিল। ক্রমাগত রেল লাইন বেড়েছে তাই আরও গাছ কাটার দরকার হয়েছে। ধারাবাহিক ভাবে সেই প্রয়োজন মেটানোর জন্য ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট গঠন করেছিল ইংরেজরা। আজ রেল লাইনের নীচে কাঠের পাটাতন বসে না তবুও সভ্যতার চাহিদা মেটাতে ফরেস্ট বিভাগের থেকে প্রতি বছর হেক্টরের পর হেক্টর এলাকার বনভূমি অবিরাম কাটা চলছে। কাঠ হল বাদামি সোনা। বর্তমান সরকার তেমনই এক ১৯২৭ সালের আইনকে নতুন থেকে কবর থেকে তুলে ‘সংশোধন’ করে আমাদের সামনে হাজির করেছে।

১৯২৭ সালের ভারতীয় বন আইন কী বলছে?
মূলত সেই আইনের যে জায়গায় সরকার পরিবর্তন এনেছে সেটা হল এবার থেকে কিছু কিছু বনকে ‘উৎপাদন বন’ নাম দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই এলাকাটাকে তারা বাণিজ্যিক ভাবে কিছু কিছু গাছ চাষ করবে। আরও একটা কারণ আছে এই ব্রিটিশ আইনকে নতুন করে তুলে আনার। ব্রিটিশরা এই আইন দিয়েই সরকারকে কোনো একটা বনকে সংরক্ষিত (রিজার্ভড) বনাঞ্চল হিসাবে ঘোষণার অধিকার দিল। সেই সংরক্ষিত বনের উপর একচ্ছত্র অধিকার রইল কেবলমাত্র সরকারের। যদিও এই আইন অনুসারে কিছু কিছু বনকে সুরক্ষিত (প্রোটেক্টেড) বন বলে ঘোষণা করে সেখানে সাধারণ মানুষের কিছুটা ব্যবহার করার অধিকার মেনে নেওয়া হয়েছিল। বাস্তবে তা হত না। শুধু মাত্র কাঠের লগ পাওয়া সুনিশ্চিত করার জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।

এটাই মোটের উপর সরকারি নীতি ছিল ১৯৮০ পর্যন্ত। এরপর সরকারের টনক নড়ল তখন, যখন তারা দেখল যে এভাবে বন ক্রমাগত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জীব বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগ জংগল রক্ষা করতে পারছিল না। বা বলা ভালো কাঠ মাফিয়াদের সাথে যোগসাজশে জঙ্গল লুটপাট হচ্ছিল। এই ১৯৮০ সালের আইন নিয়ে আর বিস্তারিত আলোচনায় যাবার অবকাশ এখানে নেই।

অন্য দিকে বহু আদিবাসী মানুষকে জ্বালানী কাঠ কাটার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। সামান্য বিড়ি যে আমরা খাই, সেই পাতা যারা বন থেকে তুলবেন তাদের বিশেষ লাইসেন্স থাকতে হত। তা না হলে ঘরে কেউ বিড়ি পাতা তুলে রাখলে তাকে গ্রেফতার করা, ফাইন করা যেত। ভেবে দেখুন, বাঁশ কি কাঠ না ঘাস এই বিতর্কের সমাধান হয়নি। তাই কেউ বন থেকে বাঁশ কেটে নিয়ে গেলে তাকে কেস দেওয়া যেতে পারত। এভাবেই বনের থেকে বহু রকমের সামগ্রী সংগ্রহ করে আদিবাসী মানুষ বিক্রি করতেন। তার উপরেও ছিল বন বিভাগের থাবা। (আজও কি নেই? এখনও তো শালপাতার উপরে ১৮% জিএসটি দিতে হয়।) বনবিভাগের অত্যাচার এমন ছিল যে সামান্য একজন ফরেস্ট গার্ডও একটা গ্রামে ঢুকে লোকের কলাটা, মুলোটা, মুরগিটা, ছাগলটা যখন তখন টেনে নিয়ে যেত। কেস দেবার ভয় দেখাত। এর ফলে এত বছর ধরে চলা ঔপনিবেশিক অত্যাচারের ফলে মারাত্মক কুফল ফলল আদিবাসীদের মানসিকতায়। আদিবাসী ও বনবাসী অন্যান্য সমাজ যারা তাদের চিরাচরিত প্রথা অনুসারে বন কে নিজেদের সমাজ থেকে আলাদা করতে শেখেইনি, তারা ভাবতে শিখল যে জংগল তাদের নিজের নয়। এই যে আদিবাসীদের সাথে বনের বিচ্ছিন্নতা ডেকে আনল ব্রিটিশ ও ব্রিটিশ অনুসারী ভারতীয় রাষ্ট্র, তার ফল হল সুদূর প্রসারী। আদিবাসীরা হয়ে গেলেন নিজ ভূমে পরবাসী।

তবে জল-জংগল-জমি-র উপরে অধিকারের দাবীতে বহু সংগ্রামও হয়েছে। সেইসব সংগ্রামের ফলে আজ আদিবাসীদের বনের উপরে যেসব চিরাচরিত অধিকার ছিল সেগুলির অনেকটা স্বীকৃতি পাওয়া গেল প্রথম ২০০৬ সালের ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্টের মাধ্যমে।

For Full Text...

Back to Home Page

Jul 19 2019


Sumit Sarkar  may be contacted at sumitsarkar1970@gmail.com


আজ কবি শঙ্খ ঘোষের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য

আজ সারাদিন শঙ্খ বাজুক বাংলার ঘরে ঘরে,
এসো, সারারাত জাগি প্রহরায় ভিতরে বাহিরে
হয়ে উঠি যা আমাদের হওয়ার কথা ছিল, 
অন্ধের স্পর্শের মতো ফুটুক রক্তকরবী মোড়ে মোড়ে
কুরুক্ষেত্র জুড়ে ঘৃণার ব্যূহগুলি সেজেছে আবার,
এসো, প্রত্যাখ্যান  করি ধর্মাধর্মের নামে সাম্রাজ্যের খেলা
শিবিরের শেকল থেকে মুক্ত হোক বন্দী বিবেক,
সকল হুঙ্কারের মুখে জ্বেলে নিইনি:শব্দের শিখা
ব্যক্তিগত ফ্যাসিবাদও পোড়াই সে আগুনে
ইস্তেহারে মুখ ঢেকে শপথের শবগুলি পড়ে আছে পথে, 
শ্বশানবন্ধুর দল, বিমূঢতা ভুলে এসো অস্বীকার করি
লুম্পেনের তর্জনীসংকেত পাড়ায় পাড়ায়, মানচিত্র জুড়ে
কবির সঙ্গে হাঁটি প্রতিবাদী প্রাণের মিছিলে।
-বিশ্বজিৎ রায়, ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১৫

Top

অন্যান্য লেখা


ও পারে বৃষ্টি, এ পার খটখটে - স্বাতী ভট্টাচার্য্য
ঘটিকাহিনী - পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাগলামীর ইতিহাস ও সভ্যতার ধারণা - সলিমুল্লাহ খান।। সেমিনার
সে তো তেমন গৌরী নয় - নীলাঞ্জন দত্ত
 
 
 
 
 
 
 
শোক নয় ক্রোধ -শঙ্কর রায অভিজিৎ রায়কে নিয়ে
 
তিনি বৃদ্ধ হলেন -অভিজিৎ রায় তাঁর বাবা অধ্যাপক অজয় রায়কে নিয়ে...
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
সম্পর্ক: শরৎ-সেপ্টেম্বর  –স্বাতী গাঙ্গুলী (সূত্রঃ -তিন পাহাড়)
 
গল্প: প্রবাহ  –বিশ্বজিৎ রায় (সূত্রঃ জনস্বার্থ বার্তা শারদ সংখ্যা)
 
 
 
 
 
 
 
 
উনুনের ধোঁয়া –জয় দাসগুপ্ত’র কবিতা
 
 
 
 
 
 
 
 
ঈদ সংখ্যা  -বাংলা ট্রিবিউন
 
 
 
 
পরমাণু সন্ত্রাস –সুজয় বসু  -মূল সূত্রঃ পরিকথা
 
 
 
নবারুন ভট্টাচার্য স্মরণ :
এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না
 
কবির নিজের কন্ঠে শুনুন
এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না
 
 

Top