banner
lefthomeaboutpastarchiveright

এপিডিআর প্রেস বিবৃতি ১৬ মার্চ, ২০১৭

সরকার ও রেল দপ্তরের অবিলম্বে সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে গ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে বিকল্প পথের সন্ধান ও প্রয়োগের মাধ্যমে ভাবাদীঘি বাঁচুক, রেল হোক- এই দাবী পূরণে সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে

তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথে গোঘাট ও কামারপুকুর সংযোগকারী অংশে ভাবাদীঘি গ্রাম সংলগ্ন ৫৪ বিঘা মাপের ভাবাদীঘি নামের জলাশয়টির ওপর দিয়ে রেল লাইন বসাবার প্রস্তাব করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প শুরুর প্রথম থেকেই গ্রামবাসীরা এবং পরিবেশ কর্মীরা প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছেন। ৯৬% তপশীলি জাতি অধ্যুষিত গ্রামটির প্রায় সামগ্রিক বিরোধিতা সত্বেও সরকার  দীঘিটির ওপর দিয়ে ৪০ মিটার চওড়া অংশ সহ দু পাড়ের জমি অধিগ্রহণ করে। এই জোর করে ‘অধিগ্রহণের’ বিরোধিতা করে যে সব গ্রামবাসীর নামে ঐ দীঘির মালিকানা স্বত্ব রয়েছে, তাঁরা অনেকেই সরকারের দেওয়া (অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ) চেকও নেন নি। তাঁদের বিরোধিতার ফলেই একাধিকবার দীঘি বোজানোর কাজ করতে গিয়ে রেল দপ্তরকে ফিরে আসতে হয়েছে। গ্রামবাসীরা ভাবাদীঘি বাঁচুক, রেল হোক এই দাবির ভিত্তিতে তাঁদের আন্দোলনের পাশে এপিডিআর-এর সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়ে একটি চিঠি দেন। বিষয়টির প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধ্যান করে তার ভিত্তিতে জেলা শাসককে গত ১৭ জানুয়ারী এক স্মারকলিপিতে ভাবাদীঘিকে বাঁচিয়ে ঐ অংশে বিকল্প পথের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করা হয়।(সে চিঠির জবাব আজও মেলেনি)।ইতিমধ্যে গত ১২ মার্চ আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় এক যুবক সুকুমার রাযকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি এবং গ্রামবাসীদের অভিযোগ  অন্য কাজে থানায় গেলে সুকুমারকে বসিয়ে রেখে কয়েক ঘন্টা পরে রাত ১১টায় থানায় তৃণমূল নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তার নামে একটি শ্লীলতাহানির অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়। এই অভিযোগ অসত্য ও বানানো বলে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে একটি আবেদনও এসডিপিও-র কাছে করা হয় বলে এপিডিআর জানতে পেরেছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর করার জন্য এপিডিআর এর একটি প্রতিনিধিদল গত ১৩ই মার্চ, ২০১৭ গোঘাট থানায় যান। তাঁরা যখন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন থানার চারপাশে বেশ কিছু লোক জড়ো হয়ে নানা কটূক্তি করতে থাকে ও হুমকি দিতে থাকে। এই সময় গোঘাট থানায় ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের ডাকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব থানায় আসেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় গোঘাট থেকে কামারপুকুর সোজা পথে রেল লাইন এলে দৈর্ঘ্য কম হয়, ভাবাদীঘিও বাঁচে--- গ্রামবাসীদের এই বিকল্প প্রস্তাবের সঙ্গে এপিডিআর যে সহমত তা জানানো হয়। এই প্রেক্ষিতে ভাবাদীঘিতে দীঘি বাঁচিয়ে রেল লাইন করা যায় কিনা সেই বিষয়ে খোঁজখবর ও রেল দপ্তরের সঙ্গে একবার আলোচনা প্রয়োজন- এই বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছিলেন। এর পরেও আজ ১৬ই মার্চ সকাল থেকেই পুলিস ও তৃণমূল কর্মীদের সমাবেশ ঘটিয়ে ডাম্পার দিয়ে দীঘি বোজানোর তোড়জোড় আমাদের স্তম্ভিত করেছে। গ্রামবাসী, বিশেষত মহিলাদের বাধাদানের ফলে সে চেষ্টা সফল হয়নি- পরিণতিতে যা যা ঘটেছে তার জন্য প্রশাসন, পুলিস, রেল ও শাসক দলই দায়ী বলেই এপিডিআর মনে করে।

এপিডিআর দাবি করছে যে,
সরকার ও রেল দপ্তরের অবিলম্বে সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে গ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে বিকল্প পথের সন্ধান ও প্রয়োগের মাধ্যমে ভাবাদীঘি বাঁচুক, রেল হোক- এই দাবি পূরণে সদর্থক ভূমিকা নিক।    
  
অমিতদ্যুতি কুমার
সভাপতি, হুগলী জেলা এপিডিআর

Mar 17, 2017