banner
left-barhomeaboutpast-issuesarchiveright-bar

 

পুস্তক সমালোচনা
অন্য এক রেনেসাঁস: আরবি ইসলামীয় সভ্যতার স্বর্ণযুগে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ ।
লেখক: সুমিতা দাস।
প্রকাশক: পিপলস বুক সোসাইটি


ইউরোপকেন্দ্রিক ইতিহাসচেতনার জেরে অন্য সভ্যতাগুলির ঐতিহ্যের বিস্মরণও একটি বৌদ্ধিক মৌলবাদ

বিশ্বজিৎ রায়

২০০১। টুইন টাওয়ারে লাদেন-বাহিনীর বিমান- বোমা। যুগোপযোগী সিলেবাস নিয়ে বিতর্কের ফাঁকে মাদ্রাসা মানেই সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর বলে চিহ্নিত। লালকৃষ্ণ আদবাণী এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রায় একমত। দুনিয়া ও দেশ জুড়ে ইসলাম-আতঙ্ক ও বিদ্বেষ তুঙ্গে। ২০০২। গুজরাতে সরকারি মদতে মুসলিম-নিধন। প্রতিবাদে এবং দাঙ্গা- দুর্গতদের জন্য ত্রাণ-সাহায্য তুলতে পথে নেমেছেন কলকাতার বুদ্ধিজীবীরা। নেতৃত্বে শঙ্খ ঘোষ, দেবেশ রায় ও জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়। সিলেবাস বিতর্কের সময় থেকে মাদ্রাসা ছাত্রদের সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ। সাথে থাকতে তাদেরও ডেকেছি। দাঁড়ি- টুপিওয়ালা মাদ্রাসা পড়ুয়াদের মিছিলে দেখে শহরের উদার- অসাম্প্রদায়িক বৃত্তে ‘ভুল বার্তা’ যাওয়ার আশঙ্কা করলেন এক দাদা। হিন্দু-মুসলমান আধুনিকমনা মধ্যবিত্তদের কাছে পৌঁছোনোটা জরুরি বলে নিদান দিলেন। মন মানল না। বুশ সাহেবের ‘ড্রেস কোড’ মেনে পশ্চিমা আধুনিক সাজলেই যে মুক্তমনা, স্বাধীনচেতন হওয়া যায় না তা তো হাড়ে হাড়ে জানি। আধুনিকতার অন্য এক ইতিহাস, ভিন্ন এক পরিভাষার সন্ধান, এক অর্থে আত্মানুসন্ধানও, বাড়ছিল।  

তত দিনে ঐ ছেলেদের সঙ্গে বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কিছুটা বন্ধুত্ব হয়েছে। জেনেছি ওরা সবাই এক ছাঁচে গড়া নয়। কোরান-হাদিস ও শরিয়ত পড়ে দ্বীনি তালিম নিয়ে আলেম হওয়ার পরীক্ষা দিলেও ওদের সবার লক্ষ্য মৌলানা- মৌলবি বা হাফেজ-কারি-মুফতি হওয়া নয়। আরবি পড়ার সুবাদে সরকারি- বেসরকারি মাদ্রাসা এবং স্কুলে আরবি শিক্ষকের চাকরি অনেকের লক্ষ্য। সুযোগ পেলে বি এড করে বাংলা, ভূগোল- ইতিহাসও পড়াতে আগ্রহী। নিজেদের মধ্যে তর্ক – বিতর্কে ওদের একদল মাদ্রাসায় ইসলামিক ধর্মীয় শিক্ষার প্রাধান্যকেই সংখ্যালঘুর স্বাধীনতার পরাকাষ্ঠা মানত এবং প্রাচীন অনুশাসন ও ঐতিহ্য মেনে ধর্মপালনকেই মুসলমান সমাজের নিজস্ব পরিচয় বাঁচিয়ে রাখার প্রধান উপায় বলে হাজির করত। অপর মতের ছেলেরাও ধর্মে নিষ্ঠাবান। কিন্তু তারা কেউ জোর দিত ঐতিহ্যের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগে, আহলে কিতাবের বুদ্ধিগ্রাহ্য ও ইতিহাসগ্রাহ্য ব্যাখ্যায়, সমসাময়িকতার সঙ্গে মানানসই সৃজনশীল চিন্তায় যেমন অতীতের মুতাজিলা ঘরানার চিন্তাবিদরা চাইতেন। কেউ আবার ইসলামিক সভ্যতার ইতিহাসে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য- দর্শন, শিল্প- স্থাপত্য চর্চার গৌরবোজ্বল অধ্যায়কে তুলে ধরে সেই সোনালী অতীতকে বিস্মৃতির গহবর থেকে বাঁচানোই জরুরি বলে মনে করত।

প্রথম দলের কয়েক জন এখন সামাজিক সংগঠনের সূত্রে বা সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত। কেউ কেউ ব্যবসা ও রাজনীতি করে অর্থশালী ও প্রভাবশালী। মাথাগোছের একজন ‘মার্কেটের চাহিদা’ মেনে একটি বি এড কলেজ এবং মাধ্যমিক স্কুল চালাচ্ছে। অপর দলের ছেলেরা অনেকে মাদ্রাসা ও দুয়েক জন দূরের স্কুলে শিক্ষকতা করে। কারো আবার তা জোটেনি। প্রথম দলের কারো কারো সামাজিক প্রভাব ও সাংগঠনিক সক্রিয়তার কারণে পেশা সূত্রে আমার যোগাযোগ আছে। দ্বিতীয় দলের ছেলেরা ছড়িয়ে গেছে, ব্যক্তিগত বৃত্তে হারিয়ে গেছে বললেও অত্যুক্তি হবে না।

শেষোক্তদের কথা আমার মনে পড়ল সুমিতা দাসের সদ্য প্রকাশিত বই, ‘অন্য এক রেনেসাঁস’ পড়তে বসে। এতে লেখিকা ‘আরবি ইসলামীয় সভ্যতার স্বর্ণযুগে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ’ নিয়ে চর্চা করেছেন। পেশায় চিকিৎসক সুমিতা পেশাদার ইতিহাসবিদ বা অ্যাকাডেমিক নন। কিন্তু ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া, বলা ভালো, কাল-কুঠুরিতে তালাবন্দি করে ফেলে রাখা প্রাচীন বিশ্বের নানা সমাজ- সভ্যতার রুদ্ধ কণ্ঠস্বরগুলিকে তিনি তুলে আনছেন এক ঐতিহাসিক দায়বোধ থেকেই। সে দায় মানব প্রগতি তথা সভ্যতা বিকাশের ধারা নিয়ে ঔপনিবেশিক কালে পশ্চিমা ইতিহাসচর্চার উত্তর- ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে মুক্তির পথ সন্ধানের। এর আগে তিনি দুটি বই লিখেছেন কলম্বাস- পূর্ব আমেরিকা এবং কলম্বাসের পর আমেরিকা নিয়ে। নতুন বইটি বিষয়গত ভাবে আলাদা হলেও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট। তাই আগের দুটি বই , বলা ভালো, তাতে ফল্গুধারায় বহমান ইতিহাসবোধটিকে সংক্ষেপে রাখছি। বলা বাহুল্য, তা আমি লেখিকার ভাবনাকে যতটা বুঝেছি।     

কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা এবং তার পরের পাঁচশো বছর
হিরে- জহরতে মোড়া সোনার দেশ ভারতের সন্ধানে মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার পথে কলম্বাস- করতেজ-পিজেরোদের উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা ‘আবিষ্কার’। আমরা মেকলের সন্তানেরা অনেক কাল ধরে জানতাম: ইউরোপের খ্রিষ্টীয় শ্বেত সভ্যতার আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার আগে এই ‘নতুন পৃথিবী’ ছিল প্রায় জনহীন এক অনাকর্ষিত কুমারী ভূমি। সেখানে কিছু ‘রেড ইন্ডিয়ান’ গোষ্ঠী তথা অসভ্য, বুনো আদিবাসী প্রায় পশুবৎ বিচরণ করত। আর এক অন্ধকার মহাদেশের মানবেতর কালো মানুষদের মতোই তাঁরা পাহাড়-নদীর বুকে লুকোন সোনা-হিরে, জঙ্গলের কাঠ- রাবার- পশুর ফার ইত্যাদির মূল্য বুঝত না। পুঁতির মালা বা রঙিন কাচের টুকরো দিয়ে যাদের থেকে জমি- পাহাড়- নদী সহ দুর্মূল্য নানা প্রাকৃতিক সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া গেছে। বেগড়বাই করলে গুলি করে গুষ্টিকে গুষ্টিকে সাবড়ে দেওয়া গেছে। তবে পাহাড়-বন- ঝরণা- নদী পূজারী এই বুনোরা আধুনিক শিক্ষা ও চিকিৎসা  অধিকাংশই মরেছে মড়কে। এভাবেই প্রকৃতির নিয়মে কালক্রমে হারিয়ে গিয়ে ওরা উন্নত সভ্যতার প্রতিনিধি ইউরোপীয় অভিবাসীদের জায়গা করে দিয়েছে।

মানুষের ইতিহাসের হিংস্রতম অধ্যায়গুলির অন্যতম ঐ পর্ব সম্পর্কে মিথ্যাচার অনেক কালই ধরা পড়েছে।আসল সত্যিটা হচ্ছে ইউরোপের রেনেসাঁর কালেই ‘নতুন পৃথিবী’তে সাদা সভ্যতার অভিভাবক সম্রাট- রাজা- পোপ ও বণিক কুলের উৎসাহে দুই প্রতিবেশি মহাদেশ জুড়ে লাল-বাদামি মানুষদের উৎসাদনে ধারাবাহিক গণহত্যা চলে। চলে বন্দুক ও বাইবেল উঁচিয়ে মায়া-আজতেক-ইনকা প্রমুখ প্রাচীন সভ্যতাগুলির অপরূপ সব শহর ঘিরে ধারাবাহিক ধ্বংস-অভিযান, স্বর্ণলালসার জেরে তাঁদের প্রাসাদ- মন্দির- সমাধি স্থলগুলির অপরিমেয় লুন্ঠন এবং নারী-শিশু-বৃদ্ধ এবং সক্ষম পুরুষ নির্বিশেষে অভাবনীয় অত্যাচার ও তাঁদের বেগার শ্রমে বাধ্য করার ব্যবস্থা। ক্ষুধা- অত্যাচার- উদয়াস্ত কঠোর শ্রম এবং গণহত্যা যাঁদের শেষ করতে পারেনি, তাঁদের মেরেছে ইউরোপ থেকে আনা রোগব্যাধি যা অজানা থাকায় অধিকাংশ ভূমিপুত্রকন্যা যুঝে উঠতে পারেননি। পশ্চিমি শাসকীয় উদ্যোগে ও তাদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতায় কয়েক শতক ধরে মানব প্রজাতির একটি বিপুল অংশকে নিশ্চিহ্নকরণের এই বীভৎস আয়োজনে সামিল অগণিত ভাগ্যান্বেষী নাবিক, সৈনিক, ব্যবসায়ী, স্বর্ণসন্ধানীর সঙ্গে ছিলেন যাজক ও শিল্প- সংস্কৃতির সমঝদার লোকেরাও। হাতে গোনা কয়েক জনকে বাদ দিলে এই রেনেসাঁ-সন্তানদের অধিকাংশের বিবেক যন্ত্রণা দূরে থাক, সোৎসাহ সমর্থনই ছিল এই ‘অসভ্য’ তথা অপরিচিত, অপর সভ্যতাগুলির হত্যাকান্ডে। এরপর আফ্রিকাতে তার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

আমরা শিখেছি ইউরোপে রেনেসাঁর প্রেরণায় জ্ঞানদীপ্তির আলোয় খ্রিষ্টীয় সমাজে রিফরমেশন বা শুদ্ধি আন্দোলনের ঝড়ে চার্চ ও রাষ্ট্রের বিযুক্তি ঘটে। সমুদ্র যাত্রা ও নতুন ভূখণ্ড আবিষ্কার সূত্রে ভূগোলের পুরোন দিগন্ত ভেঙ্গে নবীন দিগন্তের  রক্তাভাসে, দখলিকৃত সুদূর উপকূলে বাণিজ্য ও বসতির অভিঘাতে অন্ধকার ইউরোপীয় সমাজের কাঠামো নড়ে উঠে। ধর্মীয় আপ্তবাক্যের বাইরে জগত-জিজ্ঞাসার মুক্তি বিজ্ঞানচেতনার দ্বার খুলে দেয়। ঈশ্বরের জায়গা নেয় মানুষ। শেষ পর্যন্ত  রাজা-জমিদার- যাজকদের শাসনমুক্ত শৃঙ্খলহীন মানব জীবনের অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সূত্রে মানব মৈত্রীর গান গেয়ে এল ফরাসি বিপ্লব ও যন্ত্রসভ্যতার ভগীরথ, বৃটিশ শিল্প বিপ্লব।

কিন্তু ইউরোপের এই মুক্তির কাল কি বাকি পৃথিবীরও অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার কাল? না, তা আলো থেকে অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার কাল? না আলো-আঁধারির প্রদোষবেলা? রেনেসাঁর সন্তানদের উত্তরপুরুষরা অধিকাংশই এই প্রশ্ন তোলা দূরে থাক, অপর সভ্যতা গুলির অমেয় বিনাশে পূর্বপুরুষের ভূমিকা তথা গণহত্যা ও গণ উৎসাদনের প্রমাণ লোপাটে সক্রিয় হয়েছেন। বিশ্বজনীন মানব সভ্যতার বিকাশে জ্ঞান-বিজ্ঞান- প্রযুক্তি, অর্থনীতি- সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি সামরিক শক্তিতে বলীয়ান উন্নত সভ্যতাগুলির সঙ্গে সঙ্ঘাতে অনুন্নতের অবলুপ্তিকেই ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম বলে ঐ সময়ের সমাজ ও ব্যক্তিনিরপেক্ষ ব্যাখ্যা হাজির করেছেন।

এমনকি আমরা যারা উপনিবেশের সন্তান, তাঁদের পক্ষেও এই প্রশ্ন তোলা প্রায় নিষিদ্ধ ছিল। প্রাচীনপন্থী, অনাধুনিক ও প্রতিক্রিয়াশীল বলে চিহ্নিত হওয়ার ভয় ছিল এই সেদিনও। এই প্রশ্নে ইউরোপ- আমেরিকার ভাববাদী- বস্তুবাদী, উদারবাদী- রক্ষণশীল, জাতীয়তাবাদী- আন্তর্জাতিকতাবাদী, গণতন্ত্রবাদী- সমাজবাদী শিবিরগুলির বিভাজনরেখা খুব স্পষ্ট ও গভীর ছিল না। মার্ক্সবাদ তথা ঐতিহাসিক বস্তুবাদের জনকেরাও ইউরোপীয় পুঁজিবাদের বিকাশে তথা পুঁজির আদিম পুঞ্জীভবনে উপনিবেশগুলিতে লুণ্ঠন ও বেগার শ্রমের ভূমিকা নিয়ে বিশেষ আলোকপাত করেননি। এই নীরবতা যে কাকতালীয় ছিল না তা আজ ঠারে ঠোরে মার্ক্সবাদী শিবিরেও স্বীকৃতি পাচ্ছে। আসলে ভারত সহ প্রাচ্যের উপনিবেশে লুন্ঠিত ও অত্যাচারিত কালো-বাদামি মানুষের প্রতি সহমর্মী হলেও মার্ক্স- এঙ্গেলসের ভরসা ছিল ইউরোপীয় পুঁজিবাদের প্রগতিশীল ভূমিকায়; যার শিশ্নাঘাতে বাকি পৃথিবীর অহল্যাভূমির সহস্রাব্দের বন্ধ্যাত্ব ঘুচবে, যন্ত্রসভ্যতার ফুল ফুটবে, উৎপাদন ও ভোগের বৈষম্যের সূত্রে শ্রমিকবিপ্লবের পথ প্রশস্ত হবে। ভাবখানা ছিল-- ধর্ষণ নিন্দনীয় বটে, তবে কিনা এতে এতকালের বাঁজা মেয়ের কোল আলো করে সন্তান তো এল! এই ভঙ্গবঙ্গে কয়েক বছর আগে সিঙ্গুর- নন্দীগ্রাম এবং এখন ভাঙ্গড়- ভাবাদীঘিতে সেই মনোভাবেরই রকমফের শুনেছি এবং শুনছি। একই সঙ্গে রাষ্ট্র- সমাজ ও মানব উন্নয়ন- প্রগতি-বিকাশের এতকালের নিরিখগুলির পাল্টা তর্কগুলিও যে আমরা শুনতে পাচ্ছি তার নেপথ্যে প্রাচ্যের পাঁচশো বছরের চাপাপড়া ইতিহাস, পুঁজিবাদের কবলে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের তিনশো বছরের অভিজ্ঞতা, দেড়শো বছর ধরে সমাজবিপ্লবী ভাবনায় অবদমিত জিজ্ঞাসা।   

পশ্চিমের বাণিজ্য-বুদ্ধি, প্রযুক্তি জ্ঞান ও অপজ্ঞান দ্রুত আমাদের কাছে পৌঁছোনোর ব্যবস্থা থাকলেও ওদের রাষ্ট্রীয়- ধর্মীয় অভিভাবকদের  কারো কারো দুর্লভ সৎ আত্মসমীক্ষা বা ধরা পড়ার পর অপরাধের কবুলনামা চুঁইয়ে নামে অনেক কাল পরে। তা আবার ইংরেজিতে অনুবাদ না হলে আমাদের অ্যাকাডেমিয়ার চোখে পড়া মুস্কিল। সুমিতা দেশি পন্ডিতদের জন্য অপেক্ষা না করে পশ্চিমের বিবেকী কন্ঠস্বরগুলি শুনেছেন এবং কোনও পন্ডিতি চাল ছাড়াই সহজ, সাবলীল বাংলায় জানিয়েছেন সেই নিহত, ধর্ষিত সভ্যতাগুলির চাপা-পড়া ইতিহাস। তাঁর নাতিদীর্ঘ বয়ানে  প্রামাণ্য ছবি ও কথায় তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা কলম্বাসের কালেও মোটেই জনহীন ছিল না। তথাকথিত অসভ্য লাল ভূমিপুত্রদের অর্থনীতি- সমাজ- সংস্কৃতি যে শাসক ও জনসাধারণের জীবনযাপনের মানে সমসাময়িক ইউরোপ থেকে উন্নত ছিল । জানিয়েছেন, কৃষি- সেচ, কুটির শিল্প, নগর-পরিকল্পনা- স্থাপত্য, প্রযুক্তি প্রয়োগে ও নান্দনিক ভাবনায় এবং ভাষা- লিপির বিকাশে সেই তথাকথিত জনজাতীয় সভ্যতাগুলি যে সমসাময়িক পশ্চিমের থেকে আলাদা হয়েও পশ্চাৎপদ ছিল না। ইউরোপের উন্নয়ন-ভাবনায় প্রকৃতি-বিজয়ী মানুষ এবং কালক্রমে যন্ত্রের যে সদম্ভ একাধিপত্য, তার বিপরীতে এই হারানো সভ্যতাগুলির মূলমন্ত্র ছিল মানুষের প্রকৃতি- সম্পৃক্ত জীবনযাপন।

না, সেখানে আদিম সাম্যবাদী সমাজ ছিল না। কৌম ও কৌল পরিচয়-প্রধান সমাজে প্রতিবেশিদের মধ্যে প্রাকৃতিক ও অন্য সম্পদ নিয়ে বিবাদ- যুদ্ধ- রক্তপাত ছিল। কিন্তু প্রকৃতির প্রতি হিংসা ও মানুষে মানুষে হিংসা যে একই সূত্রে গাঁথা, সম্ভবত সেই বোধ থেকেই ঐ সব সমাজে ও রাষ্ট্রে শ্রেণি- বৈষম্য, সম্পদের মালিকানা ও ভোগলালসা এবং তা নিয়ে জাতিযুদ্ধ- গৃহযুদ্ধ সমসাময়িক পশ্চিমের তুলনায় অনেক কম ছিল। খাদ্যের প্রাচুর্য ছিল না তবে চূড়ান্ত অপচয়ের পাশাপাশি অনাহার মৃত্যুও ছিল না। বিজিতদের ক্রীতদাস বানানোর প্রথা ছিল। কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁদের পশুবৎ জীবনযাপনে বাধ্য করার ব্যবস্থা ছিল না। যুদ্ধ, শোষণ- শাসন, কারাগার- গুমখুন- নির্বাসন ছিল। কিন্তু দুনিয়া জোড়া রণক্ষেত্র, মহাদেশময় বধ্যভূমি, আদিগন্ত জেলখানা, কোটি কোটি প্রাণের বিনষ্টি তাঁদের কল্পনার অতীত ছিল।

এসব জানা এবং জানানোর পিছনে কোনও অতীতচারী প্রাচ্য দর্শন বা অন্ধ পশ্চিমবিরোধী ধর্মাশ্রয়ী পুনরুত্থানবাদ লেখিকাকে প্রাণিত করেনি। তবে তিনি মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন যে ইউরোপকেন্দ্রিক ইতিহাসচেতনার জেরে অন্য সভ্যতাগুলির ঐতিহ্যের বিস্মরণও আর এক কিসিমের মৌলবাদ; সেকুলার বৌদ্ধিক মৌলবাদ। তাঁর নজর ভবিষ্যতের দিকেই। আজ তথাকথিত বিশ্বায়নের যুগে চোখধাঁধানো ভোগবাদে বিভোর মধ্যবিত্ত মানস, বিশেষত নবীন প্রজন্ম। তাঁদের চেতনায় অন্য এক পৃথিবীর স্বপ্নের বীজ বুনে দিতে পশ্চিমের পুঁজিবাদী সভ্যতার অপর, অন্য সভ্যতাগুলির কথা লেখিকা শুনিয়েছেন। আমাদের প্রজন্মে তবু প্রেমেন মিত্তিরের কল্যাণে ঘনাদা ছিলেন। টঙ্গের ঘরে তাঁর গুলবাহার অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে আড্ডার সূত্রেই আমরা অনেকে প্রথম হিস্পানি ‘কঙ্কুয়েস্তাদর’-দের ষড়যন্ত্রে বিড়ম্বিত ইনকা সম্রাট আতাহুয়ালপার কাহিনী জেনেছি। ইতিহাসের আতাহুয়ালপাদের কথা আজকের বাচ্চাদের পড়াতে সুমিতার বই দুটো অবশ্য পাঠ্য। আমি পশ্চিমবাংলার শিক্ষামন্ত্রী হলে স্কুল স্তরের ইতিহাস ক্লাসে ঐচ্ছিক পাঠক্রমে হলেও বই দুটিকে অন্তর্ভুক্ত করতাম।

ইসলামিক রেনেসাঁ
আরবি- ইসলামিক দুনিয়ায় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা নিয়ে লেখিকার সদ্য প্রকাশিত বইটিও স্কুলে ও মাদ্রাসায় পড়ানো দরকার। বিশ্বব্যাপী ক্রুসেড- জিহাদ- ধর্মযুদ্ধের যুগে মুসলমান প্রতিবেশিদের ঘিরে বিদ্বেষ- আতঙ্ক- অবিশ্বাসের বাতাবরণে লালিত বাচ্ছাদের সঙ্গে বড়দের জানা দরকার ইসলাম মানেই আল কায়দা- তালিবান- দায়েস, লস্কর-এ-তইবা, জামাতে মুজাহিদিন বাংলা বা আনসার বাংলা নয়। পশ্চিমি শিক্ষায় শিক্ষিত আমরা জানি না আজকের দুনিয়ায় দর্শন- শিল্প- সাহিত্য- ভাস্কর্য- ভূগোল- ভাষাতত্ব এবং জ্যোতির্বিদ্যা- চিকিৎসা- গণিত- ভৌত- রসায়ন বিজ্ঞান ও কারিগরি প্রযুক্তি চর্চার নেপথ্যে ইসলাম-পূর্ব পারসিক, ইসলামিক পশ্চিম এশীয় এবং প্রাচীন ভারতীয় ও চৈনিক সভ্যতাগুলির অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

শুরুতেই মানচিত্র খুলে লেখিকা দেখিয়েছেন ভূমধ্যসাগর ঘিরে ইউরোপীয় গ্রেকো- রোমান সভ্যতা এবং বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সঙ্গে উত্তর আফ্রিকা, লোহিত সাগর ছুঁয়ে নীল নদের দেশ, তুরস্ক ও বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ার ইসলাম- পূর্ব এবং ইসলামিক সভ্যতাগুলির মধ্যে ভূগোল সূত্রেই ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা। এছাড়া স্থলপথে সিল্ক রুট বা রেশমি পথ ধরে মধ্য এশিয়া থেকে চীন- অবিভক্ত ভারত- ইরান- ইরাক ছুঁয়ে জেনোয়া- মিলান- রোম পর্যন্ত বানিজ্য- কাফেলার যাত্রার ঢেউয়ে মিলেছিল দেশান্তরী জ্ঞান ও জিজ্ঞাসা। পঞ্চম শতকে রোমের পতন থেকে চতুর্দশ শতকে রেনেসাঁ শুরুর মধ্যবর্তী হাজার বছর ইউরোপকেন্দ্রিক ইতিহাসচেতনায় অন্ধকার কাল, মানব ইতিহাসের দীর্ঘতম রাত্রি বলে পরিচিত। এতকাল আমরা জেনেছি, ত্রয়োদশ শতকে তার অবসান ঘটে  কনস্টান্টিনোপল- কেন্দ্রিক (আজকের ইস্তানবুল) খ্রিস্টিয় বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতন এবং ইসলামিক অটোমান সাম্রাজ্যের উত্থানের যুগে। প্রাচীন গ্রিসের জ্ঞান- বিজ্ঞানের খ্রিষ্টীয় ধারকরা ভূমধ্যসাগরীয় পশ্চিম এশিয়া থেকে পশ্চিম ইউরোপে পাড়ি দেন। কিন্তু গ্রিক বা লাতিন নয়, মূলত আরবি অনুবাদ থেকে রেনেসাঁকালীন ইউরোপ ধ্রুপদী বৌদ্ধিক সম্পদ পুনরুদ্ধার করে। চার্চশাসিত মধ্যযুগের অন্ধকার থেকে আধুনিক সমাজ ও প্রকৃতি দর্শনের দিকে যাত্রা শুরুতে তার ধাত্রীর ভূমিকা আজ স্বীকৃত। ‘কিন্তু’ -- সুমিতা প্রশ্ন তুলেছেন-- ‘আরবরা খামকা প্লেটো- অ্যারিস্ততল- ইউক্লিড- টলেমি- গ্যালেন অনুবাদই বা করতে গেল কেন, আর অনুবাদ করে সেগুলোকে নিয়ে কী করল, তা নিয়ে আলোচনা বিশেষ চোখে পড়ে না।’ এই জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে গিয়েই তিনি জেনেছেন এবং আমাদের জানিয়েছেন  ‘ইউরোপের অন্ধকার মানে যেন সারা বিশ্বই অন্ধকার’, এই ধারণা আমূল ভ্রান্ত। পশ্চিমে ‘সাহেবদের দেশে সূর্য না উঠলে’ পুব দিগন্তে, প্রতিবেশি অন্য আকাশে জ্ঞানের আলো জ্বলছিল।  

ইউরোপীয় খ্রিষ্টীয় রেনেসাঁর সলতে পাকানো শুধু নয়, তার অগ্রপথিকদের দিগদর্শন ঘটছিল ইসলামিক রেনেসাঁর আলোয়। মুহম্মদ- পরবর্তী নির্বাচিত চার খলিফাদের কাল থেকে বংশানুক্রমিক উম্মাইদ, আব্বাসিদ, ফাতিমিদ ( এবং পরের সেজলুক, মামলুক, অটোমান) সুলতান- খলিফাদের ক্রমবিস্তৃত সাম্রাজ্যে শুধু মাত্র ইসলামপরস্ত আরব পন্ডিতরা নন, ইহুদি- খ্রিস্টান- পারসিক-গ্রিক অর্থোডক্স জ্ঞানপিপাসুরাও জায়গা পেয়েছেন। তাঁরা প্রাচীন গ্রিস শুধু নয়, প্রাচীন পারস্য- ভারত-চীন থেকেও শিখেছেন। ধর্মান্ধ, অনুশাসনপ্রিয় মোল্লাতন্ত্র এবং পান থেকে চুন খসলে মাথা কাটার হুকুমবাজ শাসকরাও সেকালের দামাস্কাস, বাগদাদ, কায়রো বা ইস্তানবুলে ছিলেন। কিন্তু মধ্য যুগের ইউরোপে ভ্যাটিকান- নিয়ন্ত্রিত ‘ইনকুইজিশন’ বাহিনীর মতো ভয়ঙ্কর অত্যাচারী ধর্ম-পুলিশ এবং পোপ- সাম্রাজ্যের মতো মুক্তবুদ্ধির নিকেশে নিবেদিত অচলায়তনের ধারণা আধুনিক ওয়াহাবি সৌদি আরবের আগে ইসলামিক জগতে ছিল নজিরবিহীন। শিয়া-সুন্নি বিভাজনের পরও খলিফা পদ নিয়ে শাসক বংশগুলির মধ্যে রক্তক্ষয়ী লড়াই, সাম্রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্থানীয় শাসকদের বিদ্রোহ সবই ছিল। তাকে ছাপিয়ে ওঠে কাবুল থেকে স্পেনের করডোবা পর্যন্ত বিস্তৃত ইসলামিক জাহানে সুস্থিতির প্রয়োজনে স্থানীয় অর্থনীতি- রাজনীতি- ধর্মনীতি- দমন ও শাসন নীতির জ্ঞান এবং নানা জাতি-ধর্ম- ভাষা- সংস্কৃতির মধ্যে ভারসাম্যের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শাসনের নিশ্চয়তা। তরোয়ালের জোর এবং উম্মার ঐক্য ছাড়াও এর জন্য চাই ইসলামের আগে ও সমসময়ের অতীত ও বর্তমানের যা কিছু ভালো, অনুসরণ ও অনুকরণযোগ্য তাকে জানা। এই সূত্রেই বিশেষত দীর্ঘ আব্বাসিদ শাসন কালে জ্ঞান- বিজ্ঞান চর্চার পরিবেশ তথা শাসকীয় আনুকুল্য, প্রশ্রয়, নিদেনপক্ষে সহিষ্ণুতা। সুমিতা দেখিয়েছেন প্রাচীন গ্রিক- পারসিক- ভারতীয়- ব্যবলনিয় জ্ঞানসিঞ্চিত বইপত্র সাম্রাজ্যের ভাষা তথা কোরানের ভাষা আরবিতে অনুবাদের এক আন্দোলন গড়ে ওঠে। তারই ফসল বাণিজ্যপথ, সমুদ্রযাত্রা, কৃষির প্রয়োজনে জ্যোতির্বিদ্যা, আবহাওয়া, ভূগোল ও   ভৌত বিজ্ঞান চর্চা, রোগভোগ থেকে মুক্তির জন্য চিকিৎসা বিদ্যা, জমির মাপজোক ও রাজস্ব আদায় ঘিরে হিসেবকিতেবের জেরে গণিত- জ্যামিতি, ধাতুবিদ্যার প্রয়োজনে রাসায়নিক পরিবর্তনগুলির বোঝার চেষ্টা। এই দৈনন্দিনতা-জারিত জিজ্ঞাসার উরধে গভীর প্রকৃতি, সমাজ ও জীবনজিজ্ঞাসার উত্তর পেতে ধ্রুপদী গ্রিক, পারসিক ভারতীয় এবং চৈনিক শাস্ত্র অনুবাদ হয়েছে। এর পরিণতি জন্ম নিয়েছেন একের পর এক কিংবদন্তী বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক, জ্যোতির্বিদ এবং দার্শনিক, ভূপর্যটক, সমাজবেত্তা ও ইতিহাসবিদ। লেখিকার দেওয়া ইসলামিক সভ্যতার স্বর্ণ যুগে বিজ্ঞানে সাফল্যের ৭২১-১৪০৮ মধ্যবর্তী দীর্ সময়পঞ্জীতে রয়েছে রসায়নের জনক জাবির ইবন হাইয়ান, বীজগণিতের জনক আল খোওরাজিমি, ভারতের দশমিক প্রথাকে জনপ্রিয় করার নেপথ্যে থাকা হুনায়ুম ইবন ইশাক, চক্ষুচিকিৎসক ও গণিতজ্ঞ আল কিন্দি, প্রযুক্তিবিদ আবু মুসা, আল ফারগানি থেকে ভারতীয়দের পরিচিত পর্যটক ও জ্যোতির্বিদ আল বিরুনি, আলোক বিজ্ঞানের জনক আল-হায়থাম, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী আল রাজি,  ইবন সিনা ও ইবন রুশদ (যাদের ইউরোপ জানে যথাক্রমে আলহাজেন, রাজেস, আভিসেনা ও আভিরোস নামে)। এছাড়াও রয়েছে নানা যন্ত্র আবিস্কারক আল জাজারি, জ্যোতিরবিজ্ঞানী এবং ত্রিকোণমিতির ধাত্রী আল তুসি থেকে পরিব্রাজক ইবন বতুতা এবং অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক ইবন খালদুন। আরব ভূমি থেকে দূরে মধ্য এশিয়ার মানুষ আল খোয়ারিজমির নামে আজ চাঁদের বুকে কোনও খাদ নামাঙ্কিত। কিন্তু ইসলামিক জাহানের ঐ পথিকৃৎ জ্ঞানসাধকদের অতি অল্প কয়েকজন তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা পেয়েছেন।বাকিরা হারিয়ে গিয়েছেন বিস্মৃতির অতলে। 

 রেনেসাঁর কালে ইউরোপ তাঁদের থেকে শিখেছে, তবে তাঁদের ঋণ স্বীকার করে নি। আজও মূল ধারার ইউরোপ-আমেরিকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে ইসলামিক- পারসিক- ভারতীয়- চৈনিক, এক কথায় প্রাচ্যের ভূমিকার স্বীকৃতি নেই। তবু সভ্যতাগুলির রক্তক্ষয়ী সংঘাতের তত্ত্বের ফিরিওয়ালারা যখন গণহিস্টিরিয়া ছড়াচ্ছে, তখন যুগে যুগে ইউরোপ ও এশিয়ার নানা ধর্মাশ্রিত সমাজের দেওয়া-নেওয়ার অযুত উদাহরণকে স্মরণ করা জরুরি। মুক্তমনা জ্ঞান ও বিজ্ঞান সাধকদের প্রজন্মের পর প্রজন্মে বাহিত পারস্পরিক ঋণের পরম্পরাই হোক আমাদের উত্তরাধিকার। ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা- গণহত্যা, যুদ্ধ- গৃহযুদ্ধের অমানিশা পেরিয়ে মানবমুক্তির পথে আশার আলো জ্বালিয়ে রাখতে এই লেনদেনের ইতিহাস অন্যতম মশাল।

বইটি পড়ানো দরকার কাঠমোল্লাদেরও, যারা ‘ইসলাম খতরে মে হ্যায়’ জিগির তুলে মুসল্লিদের রক্ত গরম করে নিজেদের জাহিলিয়তকেই ইসলাম বলে প্রতিপন্ন করেন। এই কুয়োর ব্যাঙদের থেকেই ইসলামের বিপদ বেশি, শরিয়তি অনুশাসন মেনে মুসলমানির নামে এরাই তৈরি করেছে অন্দরের অবরোধ। এঁদের মৌরসিপাট্টা কায়েমের ফন্দি-ফিকির থেকে মুসলমান সমাজকে মুক্ত করার কাজে যুক্ত বন্ধুদের একটি দরকারি অস্ত্র এই বইটি।     

Mar 03, 2018


Biswajit Roy [email protected]

Your Comment if any