banner
left-barhomeaboutpast-issuesarchiveright-bar

সেক্স, আদিবাসী সমাজ, আর এক রাগে রগরগে "পর্নোগ্রাফার"(?)

সুমিত সরকার

বিখ্যাত চিত্র পরিচালক গোদার বলেছেন, "Eroticism is a form of love, love is a form of eroticism."

এখন কোনো এক লেখক যার সেক্স ড্রাইভ বেশী, বয়সও কম, আর নিজে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ, তাকে যে ইরোটিজম আকর্ষিত করবে এটা আমার কাছে খুবই স্বাভাবিক মনে হয়। অবশ্য এটা নেহাতই লেখকের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে করা মন্তব্যের উপর নির্ভরশীল আন্দাজ - ভুলও হতে পারে। তবে সেক্স ড্রাইভ বেশী বা কম থাকা কারো কোনো দোষ বা গুণ না। ব্যক্তিগত বিশেষত্ব মাত্র। আবার ‘বেশী’ বা ‘কম’ ধরনের তুলনামূলক বক্তব্য তো স্পষ্টতই আপেক্ষিক, ব্যক্তিবিশেষের কাছে যেটা বেশী, অন্য কারো কাছে হয়তো সেটাই কম। এই লেখকের বিরুদ্ধেই পর্নোগ্রাফির অভিযোগ উঠেছে। ঝাড়খণ্ডে তার ইংরাজিতে লেখা বহুচর্চিত ও প্রশংসিত এবং কারো কারো কাছে নিন্দিত ছোট গল্পের সংকলন “Adivasi will not dance” বিজেপি শাসিত রঘুবর দাস সরকার নিষিদ্ধ করেছে। তাকে সরকারী চাকরি (ডাক্তারি) থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সময়ের সাথে সাথে পর্নোগ্রাফির মানে পাল্টাতে থাকে। পর্নো-ও নানা ধরনের। পর্নো বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘায়ত করা অনেকের কাছে কুরুচিকর মনে হতে পারে, তবে এটাও এক সামাজিক বাস্তবতা। তাই এড়িয়ে না গিয়ে এরও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ দরকার।

কোথাও কোথাও বা বলা ভালো, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে, মহিলাদের ব্যবহার করার জিনিসের মত করে, ভোগ্যপণ্য হিসাবে উপস্থাপন করা হয়:

দুই ধরনের উদাহরণ দিচ্ছি। একটি ক্ষেত্রে একটি বাংলাদেশী মেয়ে, যে ইংরাজি কথা বলতে ভালোই দক্ষ, তাকে দেখানো হচ্ছে শুরুর দিক থেকে ভিডিওর মাঝামাঝি পর্যন্ত এতই সক্রিয় যে তার তুলনায় তার পুরুষ সঙ্গীকে অপ্রতিভ মনে হচ্ছে। এই ব্যাপারটা একটা সমস্যা হয়ে গেল। এই পর্নোর টার্গেট ক্রেতা পুরুষ। তাই পুরুষকে অপ্রতিভ দেখানো চলে না। এর পর চলমান দৃশ্যে কাট হল। পর্দার আড়ালে কী হল, আমরা সরাসরি জানি না। তবে, তারপর যখন দৃশ্য শুরু হল, দেখা গেল মেয়েটি কেঁদেই চলেছে; স্বভাবতই এবার পুং লিঙ্গের জয় হল। অবশেষে ব্যাপারটা পুরুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হল।

পরবর্তী উদাহরণে সারি সারি অনেকটা কাত করে রাখা কাপ বা বলা ভালো আগেকার টিভি-র পিকচার টিউবের মতো সাইজের কাপ সাজানো আছে। সেখানে প্রায় ঠেসে ঠুসে সেক্স অবজেক্ট মহিলাদের শরীরের মাঝখানটা ঢোকানো আছে। তাদের পক্ষে কোনো ভাবেই নড়াচড়া করা সম্ভব নয়। তবে তাদের হাত দুটো সম্ভবত দয়া করেই মুক্ত রাখা আছে। এবারে এই কাপের তলার দিকে ফুটো আছে। সেখান দিয়ে যার যেমন ইচ্ছে লিঙ্গ প্রবেশ ঘটাবেন। আসলে নারী দেহের সবটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে কেবল যৌনাঙ্গটুকু ভোগকারীদের কাছে প্রাসঙ্গিক।

জেনে রাখা দরকার, কোথাও পুরুষদেরকেও ব্যবহার করার, বা ভোগ করার জিনিসের মত করে উপস্থাপন করা হয়:

হয়তো দেখা গেল কোনো পুরুষ, যাকে ভোগ করা হবে, তাকে উলঙ্গ করে হাতে পায়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এবারে ভোগকারী মহিলা কাপড় শুকানোর ক্লিপ দিয়ে তার যৌনাঙ্গ বলতে গেলে সজারুর কাটার মতো বিঁধে রেখেছে। তারপর মাঝে মাঝে সারা শরীরে এবং যৌনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হচ্ছে।

আরেকটি ক্ষেত্রে একটা আঙুলের চেয়ে সামান্য সরু মসৃণ স্টিলের রড পুরুষাঙ্গের ছিদ্রের মধ্যে ঢুকিয়ে সেটা খানিকটা চিরেই ফেলা হয়েছে!

কোথাও একে যেন অপরাধ করার দৃশ্যকল্প তৈরি করে উপস্থাপন করা হয়:

একটা প্রায় অন্ধকার ঘর। সেখানে দেখা যাচ্ছে একটি মেয়েকে হাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মেয়েটি স্পষ্টতই এক নির্লিপ্ত কল গার্ল, যার মুখে ভিডিওর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো অভিব্যক্তি নেই। এর পরে নায়কের আগমন। ইনি বীর দর্পে মদের বোতল খুলে মুখে ঢাললেন। তারপর একটা ছুরি বের করে সেই মেয়েটিকে যে আলখাল্লার মতো পোশাক পরানো ছিল সেটা কেটে ফেললেন। এরপর যেমন হয়ে থাকে - এক নির্লিপ্ত নারীমূর্তির উপরে সম্ভোগ ক্রিয়া চলল।

কিন্তু এমনও হয় যেখানে নারী-পুরুষ পারস্পরিক সম্মতি কর্মে হওয়া রতিক্রিয়া হিসাবেও একে উপস্থাপন করা হয়:

এর আগে বর্ণিত বীভৎস উদাহরণগুলির তুলনায় এ তো নেহাতই নিরীহ, ঘরোয়া ব্যাপার। কারো কারো ব্যক্তিগত অ্যালবাম থেকে লিক হয়ে, বা সঙ্গীদের কারো না কারো বিশ্বাসঘাতকতার ফলে এগুলি পর্নসাইটে স্থান পেয়ে যায়।

আর যারা পেশাদার ভাবে পর্নসাইটে নিজেদেরকে অবজেক্টিফাই করেন তাদের অবস্থা যে খুবই করুণ হবে সেটা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না। 2013 সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ইস্যুতে হলিউড রিপোর্টার পত্রিকায় ল্যারি ফ্লিন্ট নামক একজন পর্নোগ্রাফার জানিয়েছেন, “I wouldn’t advice them to do (porn movies). You get used up very quickly. Within three or four months, the average girl will just get used up. It just takes your soul, you know? It just takes your soul.”

তবে কিনা এ সব তো নেহাতই পর্নো। কোনো রাজনৈতিক বিবৃতি নয়। এরা কেউ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্য যোগীর মুনশিয়ানার ধারে কাছে যায় না। উনি তো মুসলিম মহিলাদেরকে কবর থেকে তুলে ধর্ষণ করার সুপারিশ করে মুখ্যমন্ত্রী হবার আগেই বিখ্যাত হয়েছেন!

কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এমন যেকোনো লেখা যা কেবলমাত্র পর্নো হবে, সেটা কোনো সামাজিক সমস্যা তুলে ধরবে না। সেটা কেবল রতিক্রিয়াকে তার টার্গেট দর্শককে বিক্রি করবে। আর এই টার্গেট দর্শক /পাঠক পুরুষ, নারী, ক্রিমিনাল, বর্ণ/জাতি বিদ্বেষী, ঘরোয়া দম্পতি, ধর্ষণের শিকার কোনো ব্যক্তি যার মানসিক ভারসাম্য ভেঙে গেছে, লেসবিয়ান, গে, ট্রান্স জেন্ডার ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের হতে পারে।

আজকের প্রজন্ম এই পরিবেশের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। আর এটা অডিওভিজুয়াল। বিশেষত অ-আদিবাসী সমাজ, যেখানে সেক্স এক ধরনের ট্যাবু, সেখানে বেশিরভাগ যুবকদের পর্নো দিয়েই কাজ চালাতে হয়। ফলত এতে আশ্চর্য হবার কি আছে যে সঙ্গিনীর সম্মতি ছাড়া যৌন সংসর্গ করাকে ধর্ষণ করা বলে, এই প্রাথমিক শিক্ষাটুকু অনেকের আজীবনে কোনো দিন হয় না। আমাদের সরকার বাহাদুর তো বিবাহিত জীবনে সঙ্গিনীর সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ বলে মানতেই নারাজ। আর সে কথা খোস গল্প করতে গিয়ে না, আদালতে গিয়ে তারা বলে আসছেন।

কিন্তু চিরাচরিত আদিবাসী সমাজে ছেলে মেয়েদের পরস্পর মেলামেশা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। যৌনতাও পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই এক স্বীকৃত-স্বাভাবিক বিষয়। জোর করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবে সম্প্রতি আদিবাসী সমাজ বহিরাগত বা ‘দিকু’দের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে বা শহরে চলে গিয়ে বসবাস করে আগের মতো আর নেই। আদিবাসীদের মানসিকতায় এই সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে কী প্রভাব পড়ছে? তাদের সমাজেও কি পর্নো দরকার হয়ে উঠছে?

আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন আদিবাসী গ্রামে আমার যোগাযোগ ব্যবহার করে অল্প নমুনার ভিত্তিতে সাঁওতাল, ভূমিজ ও শবর আদিবাসীদের মধ্যে এক সমীক্ষা করেছিলাম। এর প্রশ্নগুলি ছিল:

1. ভিডিও দেখা যায় এমন মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোন যাদের আছে, তাদের ফ্লু ফিল্ম দেখবার প্রবণতা কেমন?
2. সম্বন্ধ করে বিয়ে করার প্রবণতা কি 10-20 বছর আগের তুলনায় বেশী? নাকি প্রেম করে বিয়ে করার প্রবণতা বেশী?
3. বিয়েতে মেয়ের বাড়ি থেকে ছেলেকে পন দেওয়া আগের 10-20 বছরের তুলনায় কি বেড়েছে?
4. যৌনতা সম্পর্কে ছেলেদের নিজেদের মধ্যে, মেয়েদের নিজেদের মধ্যে, ছেলে-মেয়ে মিলিত ভাবে নিজেদের মধ্যে কি আলোচনা হয়? সেটা কি 10-20 বছর আগের তুলনায় বেশী না কম?
5. বিবাহপূর্ব পরস্পর সহমতের ভিত্তিতে হওয়া যৌন সম্পর্কর প্রবণতা কি 10-20 বছর আগের তুলনায় বাড়ছে নাকি কমছে?
6. ছেলে-মেয়েদের সামাজিক জীবনে সাধারণ মেলামেশা কি বড়রা খারাপ চোখে দেখে? নাকি স্বাভাবিক ব্যাপার বলে মনে করে?
7. বিবাহ-বিচ্ছিন্ন /বিধবা মেয়েদের দ্বিতীয় বিয়ে হবার প্রবণতা কি 10-20 বছর আগের তুলনায় কমেছে, নাকি বেড়েছে?

আদিবাসীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী দিকুদের তথা দিকুদের সাহায্যে রাষ্ট্রের কাছাকাছি আসতে চায়। এর ফল হল এই সমাজেও মেয়েদেরকে ভোগ করার বস্তু হিসাবে দেখা শুরু হয়েছে। ছোট নজরে দেখা হচ্ছে। সেক্স বা যৌনতা এক ধরনের ট্যাবু হয়ে ওঠার ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। বিশেষত সাঁওতাল সমাজে। বিশেষত যখন তারা শহরের উপরে আরও বেশী নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে যৌনতাকে জীবনের এক অত্যধিক গোপন এবং মূল্য দিয়ে কেনার বা মূল্য দেবার ক্ষমতা না থাকলে বা থাকলেও জোর খাটানোর ব্যাপার বলে ভাবা হচ্ছে।

অথচ আগে যৌনতা এক ধরনের উৎসব ছিল। আমি নিজে 'হো' আদিবাসী যুবকদের চেঁচিয়ে "আইয়া লো আইসক্রিম" (আমার নুঙ্কু আইসক্রিম) বলে শ্লোগান দিতে শুনেছি মাগে পরবের পরিবেশে। কেউ আপত্তি করছিল না। বরং ওই ছেলেরা ঘরে ঘরে গিয়ে চাল সংগ্রহ করছিল সার্বজনীন পিকনিকের জন্য। আমাকে একজন সুপণ্ডিত হো আদিবাসী বলেছিলেন, এই মাগে পরব হল স্ত্রী যৌনাঙ্গের সাথে সম্পর্কিত উৎসব, অর্থাৎ সৃষ্টির উৎসব।

এখন আমরা সমালোচনা করছি এমন একজন আদিবাসী লেখকের যে কিনা আদিবাসীদের নিজেদের মধ্যে যৌনতা নিয়ে আলোচনা না করে সার্বজনীন ভাবে, দিকুদের ভাষায় কেবল নারী নয়, পুরুষদেরও উলঙ্গ ভাবে চিত্রিত করছেন যখন কিনা তারা যৌন সঙ্গম করছে। এর মধ্যে কি পর্নোর উপাদান আছে? নিশ্চয়ই আছে।

এই সাহিত্যিক তো সাহিত্য জীবনের শুরুতেই ইরোটিক সাহিত্য লিখেছেন। আর এক সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি বলেছেন, "I love doing sex scenes and I did not want to miss this opportunity of pushing myself further. ... Also, after having published an erotica – I prefer to call it full-fledged porn! – right at the beginning of my writing career..."। পরেও উনি এই সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গে বলেছেন, “In fact, I enjoy writing about sex. It makes me happy. It is a stress buster.”

তবে হ্যাঁ, এমনও হতে পারে যে সেক্স সিন দিয়ে গল্প আদ্যন্ত ঠাসা কিন্তু তবুও সেটা পর্নো হয়নি। গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের "An incredible sad story of innocent Erendira and her cruel grandmother" হল এমনই এক সাহিত্য।

তাহলে কি মেনে নেব যে যুবক বয়সের সাহিত্যিকদের থেকে সেক্সের আলোচনা হলে সেটা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে পর্নোই হবে আর বয়স্করা সেক্সের বিষয়ে যদিবা লেখেন তবে তারা গার্সিয়ার মতই লিখবেন?

ফ্রান্সের মহান চলচ্চিত্র পরিচালক গোদার "In praise of love" সিনেমায় বলেছেন, "But with adults, it's anything but obvious. They are never entirely naked, so to speak. They have to have a story, even in porno movies.

এই অত্যন্ত আলোচিত আদিবাসী সাহিত্যিকের ইংরাজিতে লেখা সাহিত্য (বা একে যদি সাহিত্য বলতে কারো আপত্তি থাকে তাহলে তর্কের খাতিরে একে পর্নোই ধরে নিলাম)-র মধ্যেও গল্প আছে যেটা জানার পরে বীর্য স্খলন হয় না বরং মাঝ পথে কোথাও আটকে যায়।

কিন্তু প্রশ্ন এখানেই শেষ হচ্ছে না। আরও কিছু প্রশ্ন আছে যার সঠিক জবাব চাই।

“মুখ্য ধারার সমাজ” ডেভেলপমেন্ট করবে। আর তার ধাক্কায় বাস্তুচ্যুত হয়ে, নিজ ভূমে পরবাসী হয়ে, পেট চালাতে শহরে গিয়ে, আদিবাসী মেয়েরা কি বেশ্যা হচ্ছেন না? ওনাদের জীবন, ওনাদের যৌন জীবনের সংকটের বর্ণনা, ওনাদের শোষণের বর্ণনা কীভাবে হবে? সেটা কি সাহিত্যের আঙিনার বাইরে হবে?

এটাও প্রশ্ন যে আদিবাসী সমাজ নিজেদের দুর্বলতা সাধারণত নিজেদের ভিতরেই লুকিয়ে রেখে আসছে। কিন্তু এই মোবাইল ফোনের যুগে, পর্নো ভিডিওর যুগে, সস্তায় প্রাপ্ত চিপ-এর যুগে আর তথাকথিত “মুখ্য ধারার সমাজ”-এর সাথে জুড়ে থাকবার ইচ্ছার এই যুগে সেটা কতটা সম্ভব?

আর এই পরিবেশে বড় হওয়া, ICSC বোর্ডের অধীনে পড়াশোনা করে ডাক্তার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এক আদিবাসী যখন শারীরিক সম্ভোগের দৃশ্যর "গ্রাফিক্যাল ডেসক্রিপশন" দেওয়া সত্ত্বেও এক সামাজিক সঙ্কটকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন, তখন কি আমরা তাকে জিজ্ঞেস করব যে সে কেন এক সমাজ সংস্কারকের মত আচরণ করল না? পলিটিক্যালি কারেক্ট হবার ঢং করে সে কেন প্রশ্নটাকে আরেকটু পোলাইট ভাবে উপস্থাপন করল না? সাহিত্য রচনার প্রাথমিক পর্যায়ে থেকেও সে কেন গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের মত আরেক এরেন্দিরার চরিত্র রচনা করে ফেললো না?

না, এক পর্নো(?) লেখকও যদি আদিবাসী মহিলাদের শোষণের বর্ণনা করে তাহলে আমি তাকে উৎসাহিত করব। আর সহানুভূতির সাথে পরামর্শ দেব যেন সে আরো কঠোর ভাষায় সামাজিক সঙ্কটকে এক্সপোজ করে। এতো কঠোর ভাবে, যেন তার মধ্যে থেকে একটাও লাইন বিক্রয়যোগ্য না হয়। কোনো প্রকাশক/সম্পাদক, নিজের ইচ্ছা মত যেন কোনো "নির্মল মাহাতো"-দের অণ্ডকোষের বিকৃতি লুকিয়ে রাখতে না পারে।

এই বিকৃত সমাজে, যেখানে বিকৃত রুচিই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রুচি, সেখানে  সাবভার্সিব অ্যাটাক করা ছাড়া একজন একলা সাহিত্যিক আর কীইবা করতে পারে? টাইম পাস করতে আসা পাঠকদের বিকৃত মস্তিষ্কের ভিতরে কেউ যদি গুপ্তঘাতকের মত আক্রমণ করতে পেরে থাকে, তাহলে তার প্রচেষ্টা যথেষ্ট সার্থক হয়েছে মনে করতে হবে।

আসলে হাসদা সৌভেন্দ্র শেখর একজন সাহিত্যিকের নাম না, এটা হল এক ঘটনা পরম্পরা, এক যুগের নাম। এই যুগে সভ্যতার সাথে আদিবাসীদের মেলামেশা করার ফলে কি হচ্ছে সেটা কারো কাছে লুকানো নেই, কিন্তু তাকে উলঙ্গ করার মত লেখনীর ধার সবার নেই।

চূড়ান্ত সংস্করণ লেখা শেষ হবার তারিখ: 16.09.2017

যোগাযোগ: [email protected]

Frontier
Sep 18, 2017


Sumit Sarkar [email protected]

Your Comment if any